Dhaka 8:13 pm, Sunday, 25 October 2026
[gtranslate]
Title :
fa fa-square সিরাজদিখানে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার fa fa-square সিরাজদিখানে মাদকবিরোধী অভিযানে ২৫০ গ্রাম গাঁজা সহ দু’জন গ্রেফতার fa fa-square সিরাজদিখানে ইছাপুরা ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী সভা অনুষ্ঠিত fa fa-square মানবকণ্ঠের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জমকালো আয়োজনে মুন্সিগঞ্জে উদযাপন fa fa-square ঝিকুট ফাউন্ডেশন এসএসসি জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সংবর্ধনা সম্পন্ন fa fa-square মির্জা ফখরুল ও রিজভীর জন্য শ্রীনগরে মিলাদ ও দোয়া fa fa-square সিরাজদিখানে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, র‍্যালি-আলোচনায় ঐক্যের আহ্বান fa fa-square সিরাজদিখানে পুকুরে ডুবে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু fa fa-square সিরাজদিখানে মামলা তুলে নিতে হুমকি, বাড়িঘর ভাঙচুর: আতঙ্কে পরিবার fa fa-square সিরাজদিখানে বিদ্যালয়ের পুকুর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

সিরাজদিখানে এ বছর ৬০ কোটি টাকা লোকসানের কবলে আলু ব্যবসায়ীরা

এ বছর ৬ হাজার বস্তা আলু মজুদ করেছিলাম। এর মধ্যে ১ হাজার বস্তা বিক্রি করেছি আর  ৫ হাজার বস্তা আলু এখনও রয়েছে সিরাজদীখানের  নেপচুন কোল্ড স্টোরেজ। প্রতি বস্তা কোল্ড স্টোরেজের ভাড়া  ৩০০ টাকাসহ বস্তা প্রতি আমার খরচ হয়েছে ১১০০ টাকা। সেই আলু এখন বিক্রি করতে গেলে প্রতিবস্তা আমার ৯০০ টাকা লোকসান হয়। সেই হিসাবে এ বছর ৫০ লাখ টাকার লোকসানের কবলে পড়েছি বলে জানিয়েছেন উপজেলা লতব্দী ইউনিয়নের আলু ব্যবসায়ী আশরাফ উদ্দিন ঝন্টু।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  এই ব্যবসায়ীর মতো সিরাজদীখানের প্রায় ১০ হাজার আলু চাষী ও ব্যবসায়ীর একই অবস্থা। ফলে এ বছর প্রায়  ৬০ কোটি টাকা লোকসানের কবলে পড়েছেন তারা।

ইছাপুরা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইপি সদস্য মেহেদী হাসান হীরা বলেন,আমি দীর্ঘদিন যাবত আলু ব্যবসার সাথে জড়িত। এবছর নাহার কোল্ড স্টোরেজে  ২৭শ বস্তা আলু সংরক্ষণ করে   ১৩ লাখ টাকা লোকসানে পড়েছি। এ বছরের মতো লোকসান আর কখনো হয়নি।

দেশের অন্যতম বৃহৎ আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল সিরাজদিখানে গেলো মৌসুমের শুরুতে বেশী লাভের আশায় হিমাগারে আলু রেখেছিলেন সিরাজদীখানের  কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। দাম বৃদ্ধির আশায় এত দিন কৃষক হিমাগার থেকে আলু তুলেননি । এখন সেই আলু গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। ফলে এখন বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন।

উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের ভুইরা গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, আমি ফয়েজ কোল্ড স্টোরেজে ৭০০ বস্তা আলু মজুদ করেছিলাম। এখন পর্যন্ত প্রতি কেজি ১১ টাকা দরে ৪০০ বস্তা আলু বিক্রি করেছি। বর্তমানে আলু কেজি প্রতি ৮ থেকে ৯ টাকা দরে দাম উঠছে। এই দামে বিক্রি করতে গেলে  পুরোটাই লোকসান।

এদিকে, নতুন আলু আবাদের মৌসুম সমাগত। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে কৃষক জমিতে নতুন করে আলুতে স্বপ্ন বুনবেন। আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে হিমাগার থেকে আলু না তুললে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। কিন্ত হিমাগার থেকে এখন আলু তুললে বস্তা প্রতি (১ বস্তা= ৫০ কেজী )  কমপক্ষে ৭৫০  টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এই জন্য অনেক আলু ব্যবসায়ীরা কোল্ড স্টোরেজে রাখা তাদের আলু  নিতে আগ্রহী নন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,গত বছর সিরাজদীখানে  ৮ হাজার ৮শ ৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদ হয়েছিল। আলু উৎপাদন হয়েছিলো ২ লাখ ৮৪ হাজার ৪৮০  মেট্রিক টন।  উত্তোলনের সময় জমিতেই অনেক কৃষক  আলু বিক্রি করেছেন ।  তবে বেশী লাভের আশায় অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ীরা হিমাগারে মজুদ রেখেছিলিনে ।  বর্তমানে উপজেলার ১০ টি  হিমাগারে   প্রায় ৭ লাখ ৬৩ হাজার বস্তা আলু মজুদ রয়েছে।  প্রতি বস্তা আলুর ওজন ৫০ কেজি ধরে সংরক্ষিত মোট আলুর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৮  হাজার ১৫০  মেট্রিক টন। প্রতি বস্তায় ৭৫০ টাকা লোকসান ধরলে  ক্ষতির অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৬০ কোটি টাকা।

সিরাজদিখান উপজেলার তালতলা বাজারে ফয়েজ কোল্ড স্টোরেজের সুপারভাইজার আব্দুর রহিম বলেন, সরকার আলুর দাম কেজি প্রতি ২২ টাকা নির্ধারণ করলেও এখনো সেই দামে বিক্রি বাস্তবায়ন হয়নি। প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় আলুর দাম দিন দিন কমে গেছে। এতে করে হিমাগার মালিক ও কৃষক দু’পক্ষেরই লোকসানের ভেতর লোকাসন হচ্ছে।

জেলার সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, এবার আলুর বাম্পার ফলনের কারণে দাম কম। সরকার আলুর দাম কেজি প্রতি ২২ টাকা নির্ধারণ করেছে। আমরা স্থানীয় হিমাগার গুলোতে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়ে দিয়েছি। যাতে এই দাম বাস্তবায়িত হয়। তবে দেশে প্রচুর আলু মজুদ থাকায় ক্রেতারা বেশি দামে আলু কিনছে না, তাই দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে না। তবুও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি দাম বৃদ্ধি পেতে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সিরাজদিখানে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার

সিরাজদিখানে এ বছর ৬০ কোটি টাকা লোকসানের কবলে আলু ব্যবসায়ীরা

Update Time : 09:47:48 am, Friday, 24 October 2025

এ বছর ৬ হাজার বস্তা আলু মজুদ করেছিলাম। এর মধ্যে ১ হাজার বস্তা বিক্রি করেছি আর  ৫ হাজার বস্তা আলু এখনও রয়েছে সিরাজদীখানের  নেপচুন কোল্ড স্টোরেজ। প্রতি বস্তা কোল্ড স্টোরেজের ভাড়া  ৩০০ টাকাসহ বস্তা প্রতি আমার খরচ হয়েছে ১১০০ টাকা। সেই আলু এখন বিক্রি করতে গেলে প্রতিবস্তা আমার ৯০০ টাকা লোকসান হয়। সেই হিসাবে এ বছর ৫০ লাখ টাকার লোকসানের কবলে পড়েছি বলে জানিয়েছেন উপজেলা লতব্দী ইউনিয়নের আলু ব্যবসায়ী আশরাফ উদ্দিন ঝন্টু।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  এই ব্যবসায়ীর মতো সিরাজদীখানের প্রায় ১০ হাজার আলু চাষী ও ব্যবসায়ীর একই অবস্থা। ফলে এ বছর প্রায়  ৬০ কোটি টাকা লোকসানের কবলে পড়েছেন তারা।

ইছাপুরা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইপি সদস্য মেহেদী হাসান হীরা বলেন,আমি দীর্ঘদিন যাবত আলু ব্যবসার সাথে জড়িত। এবছর নাহার কোল্ড স্টোরেজে  ২৭শ বস্তা আলু সংরক্ষণ করে   ১৩ লাখ টাকা লোকসানে পড়েছি। এ বছরের মতো লোকসান আর কখনো হয়নি।

দেশের অন্যতম বৃহৎ আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল সিরাজদিখানে গেলো মৌসুমের শুরুতে বেশী লাভের আশায় হিমাগারে আলু রেখেছিলেন সিরাজদীখানের  কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। দাম বৃদ্ধির আশায় এত দিন কৃষক হিমাগার থেকে আলু তুলেননি । এখন সেই আলু গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। ফলে এখন বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন।

উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের ভুইরা গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, আমি ফয়েজ কোল্ড স্টোরেজে ৭০০ বস্তা আলু মজুদ করেছিলাম। এখন পর্যন্ত প্রতি কেজি ১১ টাকা দরে ৪০০ বস্তা আলু বিক্রি করেছি। বর্তমানে আলু কেজি প্রতি ৮ থেকে ৯ টাকা দরে দাম উঠছে। এই দামে বিক্রি করতে গেলে  পুরোটাই লোকসান।

এদিকে, নতুন আলু আবাদের মৌসুম সমাগত। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে কৃষক জমিতে নতুন করে আলুতে স্বপ্ন বুনবেন। আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে হিমাগার থেকে আলু না তুললে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। কিন্ত হিমাগার থেকে এখন আলু তুললে বস্তা প্রতি (১ বস্তা= ৫০ কেজী )  কমপক্ষে ৭৫০  টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এই জন্য অনেক আলু ব্যবসায়ীরা কোল্ড স্টোরেজে রাখা তাদের আলু  নিতে আগ্রহী নন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,গত বছর সিরাজদীখানে  ৮ হাজার ৮শ ৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদ হয়েছিল। আলু উৎপাদন হয়েছিলো ২ লাখ ৮৪ হাজার ৪৮০  মেট্রিক টন।  উত্তোলনের সময় জমিতেই অনেক কৃষক  আলু বিক্রি করেছেন ।  তবে বেশী লাভের আশায় অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ীরা হিমাগারে মজুদ রেখেছিলিনে ।  বর্তমানে উপজেলার ১০ টি  হিমাগারে   প্রায় ৭ লাখ ৬৩ হাজার বস্তা আলু মজুদ রয়েছে।  প্রতি বস্তা আলুর ওজন ৫০ কেজি ধরে সংরক্ষিত মোট আলুর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৮  হাজার ১৫০  মেট্রিক টন। প্রতি বস্তায় ৭৫০ টাকা লোকসান ধরলে  ক্ষতির অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৬০ কোটি টাকা।

সিরাজদিখান উপজেলার তালতলা বাজারে ফয়েজ কোল্ড স্টোরেজের সুপারভাইজার আব্দুর রহিম বলেন, সরকার আলুর দাম কেজি প্রতি ২২ টাকা নির্ধারণ করলেও এখনো সেই দামে বিক্রি বাস্তবায়ন হয়নি। প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় আলুর দাম দিন দিন কমে গেছে। এতে করে হিমাগার মালিক ও কৃষক দু’পক্ষেরই লোকসানের ভেতর লোকাসন হচ্ছে।

জেলার সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, এবার আলুর বাম্পার ফলনের কারণে দাম কম। সরকার আলুর দাম কেজি প্রতি ২২ টাকা নির্ধারণ করেছে। আমরা স্থানীয় হিমাগার গুলোতে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়ে দিয়েছি। যাতে এই দাম বাস্তবায়িত হয়। তবে দেশে প্রচুর আলু মজুদ থাকায় ক্রেতারা বেশি দামে আলু কিনছে না, তাই দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে না। তবুও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি দাম বৃদ্ধি পেতে।