
সিরাজদিখানে ৫১ দিন পর মিলল নিখোঁজ বৃদ্ধের লাশ, রান্নাঘরের ১০ ফুট নিচে পুঁতে রাখা ছিল মরদেহ
সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে নিখোঁজের ৫১ দিন পর উদ্ধার হলো আওলাদ হেসেন(৬০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ। আর সেই মরদেহ পাওয়া গেল বাড়ির পাশের ভায়রা খায়ের ব্যাপারীর রান্নাঘরের প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট গভীরে পুতে রাখা মাটির নিচ থেকে।
মাটির নিচে পুঁতে রাখা সেই মরদেহ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সিরাজদিখান থানা পুলিশ উদ্ধার করে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা জৈনসার ইউনিয়নের চাইন পাড়াগ্রামে। আওলাদ হোসেন চাইনপাড়া গ্রামের মৃত ফরিদ শেখের পুত্র।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৯ মে আওলাদ হোসেন নিখোঁজ হন। পরে ২৩ মে তার ভাই আব্দুল আউয়াল শেখ সিরাজদিখান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছেন। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু কোথাও কোনো সন্ধান মেলেনি। শেষ পর্যন্ত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আওলাদ হোসেনের ভায়রা খায়ের বেপারীর বাড়ির রান্নাঘরের মাটির প্রায় ১০ ফুট নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় আওলাদ হোসেন মরদেহ।
পুলিশ জানায়, ব্যক্তিগত জীবনে আওলাদ হোসেন দুই বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রী নাজমা বেগম মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রী রানী বেগম সম্পত্তি লিখে নেয়ার জন্য আওলাদ হেসেনকে চাপ সৃষ্টি করে। আওলাদ হোসেন সম্পত্তি স্ত্রীকে লিখে না দেয়ায় সাইফুল নামে একজনের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ মাটির নিচে পুঁতে রাখেন দ্বিতীয় স্ত্রী রানী বেগম ।
নিহতের ভাই রতন শেখ জানান, আমার ভাইয়ের সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য দীর্ঘদিন যাবত আমার ভাবি রানী বেগম ভাইয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, ভাই রাজি না হওয়ায় লোক ভাড়া করে নৃশংস ভাবে আমার ভাইকে হত্যা করে মরদহ মাটিতে পুতে রাখে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও চাঞ্চল্য। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতরা হলেন, চাইন পাড়া গ্রামের কায়কোবাদ বেপারী পুত্র মানিক বেপারী(৪০), মৃত হাজী ইদ্রিস আলীর ছেলে বিন আমিন (৩৬), মমিন আলীর ছেলে রিপন(৩০), অপর জন রংপুর জেলা রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মৃত গাফফার মিয়ার পুত্র সাইফুল ইসলাম (৩৮)
সিরাজদিখান থানার ওসি মো.আলাউদ্দিন জানান,ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে । টাকা-পয়সা,স্বর্নালংকার এবং সম্পত্তির বিরোধ এর সাথে রানী বেগমের পরকীয়ার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে । নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী রানী বেগম এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী।
সিরাজদিখান (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি 








