
বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র আশুতােষ মুখােপাধ্যায়। বিক্রমপুর তথা মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের বজ্রযোগিনী গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। তার পিতা ছিলেন স্কুল পরিদর্শক পরেশচন্দ্র মুখােপাধ্যায় এবং মাতা তরুবালা দেবী। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে, আর স্কুল-কলেজের শিক্ষা লাভ করেন হুগলিতে।
হুগলির মহসিন কলেজ থেকে বি.কম পাশ করার পর কর্মজীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সাহিত্যকে জীবনের আসল ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন। প্রথমদিকে চলচ্চিত্র নির্মাণে আত্মপ্রকাশ করলেও ব্যর্থ হন এবং পরবর্তীতে “ম্যানুস্ত্রিস্ট” নামে একটি প্রকাশনা সংস্থা গড়ে তোলেন। বসুমতী ও যুগান্তর পত্রিকায় লিখতে শুরু করেন। তার প্রথম গল্প ‘নার্স মিত্র’ পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং পরে চলচ্চিত্রায়িত হয়।
আশুতোষ মুখোপাধ্যায় প্রায় দুই শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে প্রায় একশ’রও বেশি উপন্যাস। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে পঞ্চতপা, চলাচল, কাল তুমি আলেয়া, প্রতিহারিণী, সাত পাকে বাঁধা, অপরিচিতের মুখ, চাঁদের কাছাকাছি, সাবরমতী, আলোয়ের ঠিকানা, যার যেথা ঘর, আবার আমি আসবো, সোেনার হরিণ নেই (১৯৭৯), সেই অজানার খাঁজে (২ খণ্ড), বাছাই গল্প (১৯৮৮), স্বনির্বাচিত গল্প (১৯৮৮) ও রচনাবলী (২৬ খণ্ড)। শিশু সাহিত্য জগতেও তিনি সমান জনপ্রিয় ছিলেন।
১৯৫৩ সালে তিনি মমতা দেবীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কর্মজীবনে যুগান্তর পত্রিকার রবিবাসরীয় বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি অগণিত পাঠককে বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারে সমৃদ্ধ করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার ছিল এই সাহিত্যপুরুষের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী। তার শুভ জন্মদিনে বিক্রমপুরের চোখের পক্ষ থেকে এই প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
আসিফ বাঁধন 









