Title :
fa fa-square মুন্সীগঞ্জে সরকারের প্রস্তাবিত হাসপাতালের স্থান নিয়ে দুই এমপির টানাপোড়েন fa fa-square মুন্সীগঞ্জে লাইসেন্স ছাড়া ‘মর্ডান গ্রিন সিটি’র রিসোর্ট-রেস্তোরাঁ পরিচালনা: মোবাইল কোর্টে দের লাখ টাকা জরিমানা fa fa-square সিরাজদিখানে সরাকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রর দায়ে অর্থদন্ড প্রদান করা হয় fa fa-square মুন্সীগঞ্জে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে মধ্যরাতের অভিযান, ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার fa fa-square ইতালিতে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির আহ্বায়ক কমিটি গঠন fa fa-square সিরাজদিখানে ১৫ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ১ জন গ্রেফতার fa fa-square সিরাজদিখানে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে স্বামীর আত্মহত্যা fa fa-square fa fa-square সিরাজদিখানে জুয়ার আসরে অভিযান: ৫ জুয়াড়ি গ্রেফতার, নগদ টাকা ও তাস উদ্ধার fa fa-square সিরাজদীখানে যুবদল নেতার উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল 

মুন্সীগঞ্জে সরকারের প্রস্তাবিত হাসপাতালের স্থান নিয়ে দুই এমপির টানাপোড়েন

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:08:56 am, Wednesday, 8 April 2026
  • 181 Time View

মুন্সিগঞ্জে সরকারের প্রস্তাবিত হাসপাতালের স্থান নিয়ে দুই এমপির টানাপোড়েন

 

সর্বাধিক উপযোগী হবে এক্সপ্রেসওয়ের পাশে- সুশীল সমাজ

 

ইমতিয়াজ বাবুল

মুন্সীগঞ্জ জেলায় প্রস্তাবিত সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই সংসদ সদস্য পরস্পরের বিরোধী বক্তব্য রাখছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি কোথায় স্থাপিত হবে, তা নিয়ে দুই এমপির ভিন্নমুখী অবস্থান জনমনে উদ্বেগ ও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সরকারের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৩৮তম সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয় মুন্সীগঞ্জ জেলায়। আধুনিক চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ ও চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে জেলাবাসীর মধ্যে শুরু থেকেই আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দেয়।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ প্রস্তাবিত হাসপাতালটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে স্থাপনের দাবি জানান। তার যুক্তি, এক্সপ্রেসওয়ের পাশে হাসপাতাল হলে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনগোষ্ঠী সহজেই চিকিৎসা সেবা পাবে। অপরদিকে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন সাংবাদিকদের কাছে হাসপাতালটি জেলা সদরে স্থাপনের পক্ষে মত দেন। তিনি মনে করেন, জেলা সদরে হাসপাতাল স্থাপন করা হলে প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সুবিধা বেশি পাওয়া যাবে।

স্থানীয়দের একটি বড় অংশ মনে করছেন, হাসপাতালটি সিরাজদীখান, শ্রীনগর বা লৌহজং উপজেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে স্থাপন করা হলে মুন্সীগঞ্জের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ঢাকা জেলার দোহার,কেরানীগঞ্জের মানুষও এর সুফল ভোগ করতে পারবে। এতে দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হবে।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবির সিদ্দিকি বলেন,‘বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর  অঞ্চলের মানুষকে ঢাকায় ছুটতে হয়, সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। বিশেষ করে বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-পাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মাঝেমধ্যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। নিত্যদিন প্রাণহানির  ঘটনা ঘটছে। রোড এক্সিডেন্টে গুরুতর আহত রোগীরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে প্রাণ হারায়। সরকারের প্রস্তাবিত   মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি মুন্সীগঞ্জ জেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের কাছে  স্থাপন হলে আমাদের দক্ষিণ বঙ্গের কয়েকটি জেলার মানুষ সুবিধা পাবে  ।’

শ্রীনগর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর ইসলাম খান  বলেন‘,জেলার সিরাজদীখান শ্রীনগর ও লৌহজং উপজেলার মানুষকে বিভিন্ন   মামলা মোকাদ্দমা নিয়ে মুন্সীগঞ্জ  সদর যেতে হয়। এই তিন উপজেলার ভুক্তভোগী মানুষের মুন্সীগঞ্জ সদরে যেতে সময় লাগে প্রায় এক ঘন্টা। আর সরকারের প্রস্তাবিত হাসপাতালটি  যদি মুন্সীগঞ্জ সদরে হয় তাহলে ডাক্তার আসার আগেই রোগী মারা যাওয়ার মতো অবস্থা হবে। মেডিকেল কলেজও  হাসপাতালটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে হলে  দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলার লোকও সুবিধা পাবে ।’

এড.মারুফ হাসান মন্টি বলেন,‘ভৌগলিক অবস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে সদরের চাইতে ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে হাসপাতাল হওয়া বেশী জরুরী। ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে হাসপাতাল হলে জেলার সকল উপজেলার মানুষ সহ দক্ষিনাঞ্চলের মানুষ সুবিধা পাবে। তাছাড়া দেশের ব্যাস্ততম মহাসড়কে প্রতিদিন মারাত্মক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে সেই সাথে ঢাকাকে ফাকা করে মুন্সীগঞ্জকে আধুনিক জেলায় রুপান্তর করা সম্ভব হবে। সার্বিক বিবেচনায় এবং বহু মানুষকে সেবা দেওয়ার একটাই পথ ঢাকা মাওয়া  এক্সপ্রেসওয়েরপাশে হাসপাতাল নির্মাণের ব্যবস্থা করা তা না হলে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয়ের সাথে সেবাপ্রার্থী জনগনকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে ।’

বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সহজ যোগাযোগ, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উপকার এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালের স্থান নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত হাসপাতালের স্থান নিয়ে দুই এমপির এই ভিন্নমুখী বক্তব্য মুন্সীগঞ্জের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, সংশ্লিষ্টরা সমন্বিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এমন একটি স্থান নির্বাচন করবেন, যা পুরো অঞ্চলের মানুষের জন্য সর্বাধিক উপযোগী হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মুন্সীগঞ্জে সরকারের প্রস্তাবিত হাসপাতালের স্থান নিয়ে দুই এমপির টানাপোড়েন

মুন্সীগঞ্জে সরকারের প্রস্তাবিত হাসপাতালের স্থান নিয়ে দুই এমপির টানাপোড়েন

Update Time : 07:08:56 am, Wednesday, 8 April 2026

মুন্সিগঞ্জে সরকারের প্রস্তাবিত হাসপাতালের স্থান নিয়ে দুই এমপির টানাপোড়েন

 

সর্বাধিক উপযোগী হবে এক্সপ্রেসওয়ের পাশে- সুশীল সমাজ

 

ইমতিয়াজ বাবুল

মুন্সীগঞ্জ জেলায় প্রস্তাবিত সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই সংসদ সদস্য পরস্পরের বিরোধী বক্তব্য রাখছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি কোথায় স্থাপিত হবে, তা নিয়ে দুই এমপির ভিন্নমুখী অবস্থান জনমনে উদ্বেগ ও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সরকারের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৩৮তম সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয় মুন্সীগঞ্জ জেলায়। আধুনিক চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ ও চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে জেলাবাসীর মধ্যে শুরু থেকেই আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দেয়।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ প্রস্তাবিত হাসপাতালটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে স্থাপনের দাবি জানান। তার যুক্তি, এক্সপ্রেসওয়ের পাশে হাসপাতাল হলে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনগোষ্ঠী সহজেই চিকিৎসা সেবা পাবে। অপরদিকে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন সাংবাদিকদের কাছে হাসপাতালটি জেলা সদরে স্থাপনের পক্ষে মত দেন। তিনি মনে করেন, জেলা সদরে হাসপাতাল স্থাপন করা হলে প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সুবিধা বেশি পাওয়া যাবে।

স্থানীয়দের একটি বড় অংশ মনে করছেন, হাসপাতালটি সিরাজদীখান, শ্রীনগর বা লৌহজং উপজেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে স্থাপন করা হলে মুন্সীগঞ্জের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ঢাকা জেলার দোহার,কেরানীগঞ্জের মানুষও এর সুফল ভোগ করতে পারবে। এতে দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হবে।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবির সিদ্দিকি বলেন,‘বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর  অঞ্চলের মানুষকে ঢাকায় ছুটতে হয়, সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। বিশেষ করে বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-পাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মাঝেমধ্যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। নিত্যদিন প্রাণহানির  ঘটনা ঘটছে। রোড এক্সিডেন্টে গুরুতর আহত রোগীরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে প্রাণ হারায়। সরকারের প্রস্তাবিত   মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি মুন্সীগঞ্জ জেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের কাছে  স্থাপন হলে আমাদের দক্ষিণ বঙ্গের কয়েকটি জেলার মানুষ সুবিধা পাবে  ।’

শ্রীনগর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর ইসলাম খান  বলেন‘,জেলার সিরাজদীখান শ্রীনগর ও লৌহজং উপজেলার মানুষকে বিভিন্ন   মামলা মোকাদ্দমা নিয়ে মুন্সীগঞ্জ  সদর যেতে হয়। এই তিন উপজেলার ভুক্তভোগী মানুষের মুন্সীগঞ্জ সদরে যেতে সময় লাগে প্রায় এক ঘন্টা। আর সরকারের প্রস্তাবিত হাসপাতালটি  যদি মুন্সীগঞ্জ সদরে হয় তাহলে ডাক্তার আসার আগেই রোগী মারা যাওয়ার মতো অবস্থা হবে। মেডিকেল কলেজও  হাসপাতালটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে হলে  দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলার লোকও সুবিধা পাবে ।’

এড.মারুফ হাসান মন্টি বলেন,‘ভৌগলিক অবস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে সদরের চাইতে ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে হাসপাতাল হওয়া বেশী জরুরী। ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে হাসপাতাল হলে জেলার সকল উপজেলার মানুষ সহ দক্ষিনাঞ্চলের মানুষ সুবিধা পাবে। তাছাড়া দেশের ব্যাস্ততম মহাসড়কে প্রতিদিন মারাত্মক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে সেই সাথে ঢাকাকে ফাকা করে মুন্সীগঞ্জকে আধুনিক জেলায় রুপান্তর করা সম্ভব হবে। সার্বিক বিবেচনায় এবং বহু মানুষকে সেবা দেওয়ার একটাই পথ ঢাকা মাওয়া  এক্সপ্রেসওয়েরপাশে হাসপাতাল নির্মাণের ব্যবস্থা করা তা না হলে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয়ের সাথে সেবাপ্রার্থী জনগনকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে ।’

বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সহজ যোগাযোগ, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উপকার এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালের স্থান নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত হাসপাতালের স্থান নিয়ে দুই এমপির এই ভিন্নমুখী বক্তব্য মুন্সীগঞ্জের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, সংশ্লিষ্টরা সমন্বিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এমন একটি স্থান নির্বাচন করবেন, যা পুরো অঞ্চলের মানুষের জন্য সর্বাধিক উপযোগী হবে।